বিশ্বজুড়ে Internet Censorship ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন Freedom.gov Portal: বাকস্বাধীনতা নাকি নতুন Cyber War? | Bug Mohol
Bug Mohol Tech Desk | তারিখ: ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Internet-এর মূল মন্ত্রই হলো অবাধ তথ্যপ্রবাহ। কিন্তু বাস্তবে ভৌগোলিক সীমানা এবং রাষ্ট্রীয় Censorship-এর কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত বা প্রয়োজনীয় Website-গুলোতে প্রবেশ করতে পারেন না। মতপ্রকাশের এই অদৃশ্য দেয়াল ভাঙতে এবার এক যুগান্তকারী ও একইসঙ্গে চরম বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে US। বিশ্বজুড়ে Blocked বা নিষিদ্ধ Website-গুলো Browse করার সুযোগ করে দিতে তারা উন্মুক্ত করেছে Freedom.gov নামের একটি বিশেষ Online Portal। Bug Mohol-এর Technology-প্রেমী পাঠকদের জন্য এই Portal-টির প্রযুক্তিগত, Cyber Security এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আজকের এই বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই Portal-টির কার্যপ্রণালী অত্যন্ত চমকপ্রদ। সাধারণত কোনো নিষিদ্ধ বা Geo-blocked Site-এ প্রবেশ করতে User-রা VPN বা Proxy Server-এর ওপর নির্ভরশীল থাকেন, যা অনেক সময় ধীরগতির এবং অনিরাপদ হয়। কিন্তু ‘Freedom.gov’ Portal-টির বিশেষত্ব হলো, এটি ব্যবহার করলে Virtual জগতেও User-এর অবস্থান সরাসরি US-এ দেখাবে। ফলে নিজ দেশের Internet নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো বাধাই আর এখানে কার্যকর থাকবে না। Cyber Security এবং Web Development নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে Data Privacy একটি বড় Issue। এই Portal-টি সেই Privacy-র জায়গাটিকেও দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে, কারণ Browsing-এর সময় এটি User-এর কোনো ব্যক্তিগত Data Track বা Record করে না। এর প্রাথমিক Version-এর Homepage-এই একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, “তথ্যই শক্তি। আপনার মতপ্রকাশের যে মানবাধিকার রয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করুন।” যা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, Cyber জগতে তথ্যের ওপর সরকারি খবরদারি তারা আর মেনে নিতে রাজি নয়।
US State Department এই উদ্যোগটিকে মূলত মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান US প্রশাসন তাদের নীতিমালায় এই ‘Free Speech’-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু এই অবাধ বাকস্বাধীনতার ধারণার সাথেই সরাসরি সংঘাত বাঁধতে যাচ্ছে European Union (EU) এবং UK-এর মতো অঞ্চলগুলোর। Europe-এর Internet নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা US-এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে ‘Digital Services Act’ এবং UK-এর ‘Online Safety Act’-এর মতো অত্যন্ত কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে Internet-এ ইহুদিবিদ্বেষ, চরমপন্থী প্রচারণা বা কোনো ধরনের ঘৃণা ছড়ানো (Hate Speech) প্রশ্রয় দেওয়া যায় না এবং বড় Tech Company-গুলো তা দ্রুত Remove করতে বাধ্য।
Europe-এর দেশগুলো তাদের Digital Space-কে কতটা কড়াকড়ির মধ্যে রাখে তার প্রমাণ পাওয়া যায় জার্মানি ও পোল্যান্ডের সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপগুলোতে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল গত বছরেই সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগে জার্মানি ৪৮২টি Content সরানোর সরকারি নির্দেশ জারি করেছিল এবং Internet Service Provider (ISP)-দের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৭৭২টি Content চিরতরে মুছে ফেলতে বাধ্য করেছিল। অন্যদিকে, পোল্যান্ডের একটি রাজনৈতিক দলের Facebook Post-এ অভিবাসীদের ‘ধর্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে যে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছিল, তা ইউরোপীয় আইনে ‘বেআইনি ঘৃণা ছড়ানোর’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ায় Meta-র Oversight Board তা Remove করার নির্দেশ দেয়। দৃশ্যপটটি বেশ সাংঘর্ষিক; Europe যখন কঠোর আইন করে Internet থেকে ক্ষতিকর Content মুছে ফেলছে, ঠিক তখনই US সেই Blocked বা মুছে ফেলা Content-গুলো দেখার জন্যই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একটি Portal উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।
পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, Freedom.govকেবল একটি Browsing Tool নয়, এটি Internet-এর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শিক লড়াইয়ের একটি বড় হাতিয়ার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে US-এর বর্তমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এমনিতেই বেশ স্পর্শকাতর। এর মধ্যে এমন একটি Portal ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের Internet নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সাথে US-এর এক নতুন Cyber দ্বন্দ্বের সূচনা করতে পারে। একদিকে অবাধ তথ্যের মানবাধিকার, অন্যদিকে Digital Security ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লড়াই—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে Global Internet-এর ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে এগোবে, সেটাই এখন Tech World-এর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
'ফ্রিডম ডটগভ' (Freedom.gov) পোর্টালটি আসলে কী?
এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকার দ্বারা তৈরি সম্পূর্ণ নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটে তাদের দেশের সরকার কর্তৃক ব্লক করা বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটগুলোতে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবেন।
এই পোর্টালটি কি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য?
না, এই পোর্টালটি শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ, এশিয়াসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ এই পোর্টালটি ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এড়াতে পারবেন।
Freedom.gov ব্যবহার করা কি নিরাপদ? এটি কি ট্র্যাক করে?
পোর্টালটি ব্যবহারকারীর ডেটা প্রাইভেসির দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে। আপনি যখন এটি দিয়ে ব্রাউজ করবেন, তখন আপনার কোনো ব্যক্তিগত ডেটা বা ট্র্যাক রেকর্ড সেভ করা হবে না। এছাড়া, ভার্চুয়াল জগতে আপনার লোকেশন যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে দেখাবে।
যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ কেন এমন একটি পোর্টাল তৈরি করলো?
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এটিকে ‘মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ইন্টারনেটে তথ্যের ওপর যে সেন্সরশিপ বা বিধিনিষেধ আরোপ করে, মূলত তার পাল্টা জবাব দিতেই বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কেন এই উদ্যোগের বিরোধী হতে পারে?
ইউরোপে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’-এর মতো কঠোর আইন রয়েছে। তারা মনে করে, বাকস্বাধীনতার নামে ইন্টারনেটে ঘৃণা বা চরমপন্থী প্রচারণা (Hate Speech) ছড়ানো উচিত নয় এবং তারা এগুলো ব্লক করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সেই ব্লক করা সাইটগুলোই উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, যা ইউরোপের সাইবার আইনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
নিষিদ্ধ সাইটে ঢুকতে ভিপিএন (VPN) না ব্যবহার করে এটি কেন ব্যবহার করবো?
ভিপিএন অনেক সময় ধীরগতির এবং অনিরাপদ হতে পারে। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি এই পোর্টাল ব্যবহার করলে সরাসরি ইন্টারনেটের কাছে মনে হবে আপনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বসে ব্রাউজ করছেন, ফলে নিজ দেশের কোনো সেন্সরশিপ বা রেস্ট্রিকশন এখানে খাটবে না।
Related Posts
🔔 আমাদের সাথে থাকুন — Bug Mohol এ বাংলায় সাইবার দুনিয়ার গভীরতম বিশ্লেষণ পাবেন।